শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফেরানো সাইবার সুরক্ষা আইন পরিমার্জনের অন্যতম লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিটাল পরিসরে শালীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, সাইবার বুলিং থেকে নারী ও তরুণদের সুরক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পরিমার্জন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফেরানো সাইবার সুরক্ষা আইন পরিমার্জনের অন্যতম লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিটাল পরিসরে শালীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, সাইবার বুলিং থেকে নারী ও তরুণদের সুরক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পরিমার্জন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে সাইবার অপরাধ, অনলাইন বুলিং এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআইয়ের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স।

সাক্ষাতে আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন এবং সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে পরিচালিত কর্মসূচির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে জানান, নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন বা গালিগালাজ এক নয়।'

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের আগে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ যাতে না থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।