মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন পরলোকগমন করেছেন। ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র ও দুই কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আজ রবিবার বাদ আসর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মোশারফ হোসেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জয় বাংলা বাহিনীর (বিএলএফ) নোয়াখালী ও হাতিয়া অঞ্চলের জোনাল কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতিতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়, যার ধারাবাহিকতায় তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দলের ব্যানারে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এই প্রবীণ নেতার অবর্তমানে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন।
একই সাথে শোক জানিয়েছেন কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বারাকাত দুলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন। এছাড়াও কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মুছাকালিমুল্লাহ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলসহ (বাসদ) বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।