দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বুকায়ো সাকার একমাত্র গোলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে লন্ডনের ক্লাবটি।
মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে দর্শক মাতানো পরিবেশে মিকেল আর্তেতার দল এই গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়। প্রথম লেগে মাদ্রিদে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ফলে দুই ম্যাচ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে পৌঁছে যায় আর্সেনাল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩০ মে বুদাপেস্টে। সেখানে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ হবে পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে ছিল আর্সেনাল। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জুলিয়ান আলভারেজ ও সিমিওনে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও তারা গোল করতে ব্যর্থ হন। তবে প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে বুকায়ো সাকা গোল করে এমিরেটসকে উল্লাসে ভাসান। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের শট গোলরক্ষক জান ওবলাক পুরোপুরি রক্ষা করতে না পারলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন সাকা।
চলতি আসরে এটি আর্সেনালের নবম ক্লিন শিট। সাকার এই গোলকে ঘিরে সমর্থকদের দীর্ঘ দুই দশকের আক্ষেপেরও অবসান ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাটলেটিকো ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ডেভিড রায়ার দৃঢ়তা এবং আর্সেনালের রক্ষণভাগ তা সফল হতে দেয়নি।
এটি আর্সেনালের জন্য এক ঐতিহাসিক মৌসুমের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে তারা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে শীর্ষে, অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি।
এই জয়ের মাধ্যমে মিকেল আর্তেতার দল ৫৫ বছর আগের একটি রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে। ১৯৭১ সালে এক মৌসুমে আর্সেনাল ৪১টি ম্যাচ জিতেছিল—মঙ্গলবারের জয়ের মাধ্যমে সেই রেকর্ডে পৌঁছে যায় বর্তমান দল।
২০০৬ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছিল আর্সেনাল। সেবার বার্সেলোনার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ সামনে।
প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট হারানোয় শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে গেছে আর্সেনাল। ওয়েস্ট হ্যাম, বার্নলি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে বাকি তিন ম্যাচ জিতলেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত হবে তাদের। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে ২০০৪ সালের অপরাজিত ‘ইনভিন্সিবলস’ দলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে আর্তেতার শিষ্যদের।