ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম রেজা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন কৈশোর থেকে। শৈশবেই তার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক এই সদস্য কাব্যচর্চাও করছেন অনেকটা নিভৃতেই। দ্য ভয়েস২৪-এর পাঠকদের জন্য শামীম রেজা রচিত একটি কবিতা প্রকাশ করা হল। কবিতাটিতে উঠে এসেছে সমকালীন বৈশ্বিক রাজনীতি, মানবিক দুর্দশা এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের মোড়কে নিজস্ব দর্শনের বহিঃপ্রকাশ।
এ সময়
এ সময়ে আমাদের ঠিক চাঁদ-তারার সৌন্দর্যে বিমোহিত হওয়ার কথা নয়।
এ সময় অ্যাপোলো অথবা আর্টেমিস দেবীর পৌরাণিক প্রলাপ
মনস্তত্ত্বে বিজ্ঞাপন হওয়ার কথা নয়।
সে সময়ের সুকান্তর ঝলসানো রুটি
এ সময়ে হয়ে গেছে অর্ধেক।
সমৃদ্ধ ইতিহাস, অর্থনীতি আর কালচার—
সভ্য সমাজের ইউটোপিয়া
আজ পরিষ্কার অষ্টমীর জ্যোৎস্নার মতো।
যে সময়ে মনে হয় প্রেয়সীর মুখের রঙ
আদখানা চাঁদের জ্যোৎস্নার মতো;
খানিকটা মনে পড়ে
খানিকটা ভুলে যাই,
অল্পতে মুখ কালো
অল্পতে গলে যায়!
হায়! সে সময়েও আমাদের
এই বৈশ্বিক রাজনীতির টানাপোড়েন!
বরং এ সময় আমাদের অদ্ভুত এই শহরের মায়াজাল ভেঙে চুরমার করে
ডানা মেলার।
এ সময় প্রাগৈতিহাসিক বিবাদের
সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে,
বিবর্ণ বিষন্ন আধুনিক চিড়িয়াখানায় বন্দি
প্রাণিসকলের মুক্ত হওয়ার।
এ সময় আত্মসর্বস্ব পুজিবাদী আবেগ
আর শঙ্কিত দাম্ভিক উজবুকের
খোলস ছেড়ে তা ধিন ধিন
নৃত্য করার।
সে সময়ের 'রূপসার ঘোলা জলে
কিশোরের সাদা ছেঁড়া পাল'
এ সময় নিতান্তই স্থির!
তাই এ সময় কবিতারা বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়;
আর কবি তামাশা দেখে মুচকি হাসেন।
নক্ষত্রের রাত পেরিয়ে যায়,
ডেকে আনে অশনির ভোর।
খামার থেকে সারিবদ্ধ ভেড়ার পাল
ভ্যাঁ ভ্যাঁ ধ্বনিতে উন্মাদ;
এ সময় অ্যাড্রিনাল
ছুঁতে চায় অরোরার রঙ।
এ সময়ে বিশ্বজুড়ে সর্বময় সংঘাত;
ওয়েস্ট ব্যাংকের শিশুদের কান্নায়
ভূরাজনীতির সমীকরণ ঘোরে না।
এ সময়ে জরথুষ্ট্র জেগে উঠুক,
এ সময়ে যিশু, যিজাস বা ঈসা
পুনরায় ভালবাসা বিলাক
ফিলিস্তিনের সর্বশেষ জীবিত জলপাই বাগানে।
আলির শানিত তরবারি চুরমার করুক
শিয়া কিংবা সুন্নির রাজনৈতিক বিভেদ।
হায় হাসান হায় হোসেন
এ সময় আফসোসের!
কিংবা এ সময় ক্রুসেড আসুক ফিরে,
আণবিক বোমার আঘাতে
হরমুজ থেকে পেন্টাগন
উল্টে যাক।
তারপর পৃথিবী হোক রজনীগন্ধার।
৭ এপ্রিল, ২০২৬
শংকর।


