বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কম থাকলেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা পাম্প ভাঙচুর সহ্য করা হবে না। যেকোনো ধরনের অরাজকতা বা 'মব' কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং আইনের বাইরে কাউকে কাজ করতে দেওয়া হবে না। খাল খনন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে দলীয় ও আইনি—উভয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্য ও হাঁস পালনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা বা রাজনীতি করা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল পরকালের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও প্রকৃত অর্থে সৎ কর্ম ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমেই স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। তিনি জনগণকে এসব বিভ্রান্তিতে পা না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ঝড়-বৃষ্টিতে গম ও আলুর যে ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে সরকার অবগত আছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষকদের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে এবং সারাদেশে কয়েক কোটি নারীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এছাড়া কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দেশব্যাপী ২০ হাজার খাল খননের মহাপরিকল্পনা সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়াও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলল হোসেন এবং জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।