যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতা চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান।
রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্যোগকে ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করছে। একই সভায় তিনি জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১২ এপ্রিল দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান পাকিস্তানের বর্তমান প্রশাসনকে ওয়াশিংটনের আজ্ঞাবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যার পর এখন ইসরায়েলের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। লেবাননেও নির্বিচারে হামলা চালানো হচ্ছে। তার মতে, মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী অপশক্তির পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকার নির্লজ্জ তাবেদারি করছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনার আড়ালে সরকার একদিকে পশ্চিমাদের সুবিধা করে দিচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ার দাবি প্রসঙ্গেও তিনি কড়া সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ১০টি জাহাজ তেল নিয়ে নির্বিঘ্নে আসতে পারে, তবে কেন দেশে তেলের দাম বাড়ানো হলো? তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তানকে ব্যবহার করে এই তেল অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না বা আদৌ এই জাহাজগুলো করাচি বন্দরে নোঙর করেছে কি না, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকার সমালোচনা করে এই প্রভাবশালী রাজনীতিক বলেন, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও সেনাপ্রধানের সাফল্য দাবি করাটা জাতির সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। ট্রাম্প প্রশাসন যখন নিজের দেশেই কোণঠাসা, তখন পাকিস্তান সরকার নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে নির্লজ্জভাবে তাদের খুশি করার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সরকারের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিকেও ভুল বলে অভিহিত করেন।