ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর উচিত অবিলম্বে দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া দণ্ডাদেশ এবং বিচারাধীন মামলাগুলো আইনি পন্থায় মোকাবিলা করা। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আপিল আবেদনের সুযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রায় প্রকাশের পরবর্তী ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেই নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি আদালতের মুখোমুখি হওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে আপিল দায়েরসহ সার্বিক আইনি বিষয়গুলো তখন সম্পূর্ণভাবে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে অসংখ্য ফৌজদারি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলায় ইতিমধ্যে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ একাধিক সহিংস ঘটনার দায়ে তিনি বিচারের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে হাসানুল হক ইনুর সংশ্লিষ্টতা তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সে সময় দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধসহ গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার দায় তিনি পরবর্তীতে স্বয়ং জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকারও করেছিলেন। ফলে শাপলা চত্বর সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে অন্যতম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তদন্ত প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লব দমনে স্নাইপার রাইফেলের মতো মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাদের এই স্নাইপার ব্যবহারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। এর পাশাপাশি যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি মামলার নথির বরাতে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে বরাদ্দ করা সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সরাসরি আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে ব্যবহার করেছে।