রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শেখ পরিবার সংশ্লিষ্ট জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করবে না সরকার

শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী কেন্দ্রিক সব জাতীয় দিবস পালন না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। গত ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া এই নীতিগত অবস্থান বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শেখ পরিবার সংশ্লিষ্ট জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করবে না সরকার
ছবিঃ সংগৃহীত

শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী কেন্দ্রিক সব জাতীয় দিবস পালন না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। গত ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া এই নীতিগত অবস্থান বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে মোট ৮৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রবর্তিত শেখ পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট কোনো দিবস রাখা হয়নি। এর ফলে অতীতে পালন করা ১৭ মার্চের জন্মবার্ষিকী এবং ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস আর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হবে না।

পরিবর্তিত এই তালিকায় ৫ আগস্ট তারিখটিকে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে স্মরণীয় করতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া ১৬ জুলাই তারিখটিকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে। রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দিবসটি প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই দুটি দিবসই পালনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। পাশাপাশি মরমি সাধক লালন শাহর মৃত্যুবার্ষিকীকে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ‘এ’ ক্যাটাগরির দিবসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রাষ্ট্রীয় দিবসগুলোকে গুরুত্বের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে (এ, বি এবং সি) বিন্যস্ত করেছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী ১৭টি দিবস ‘এ’ ক্যাটাগরিতে, ৩৭টি দিবস ‘বি’ ক্যাটাগরিতে এবং ৩৫টি দিবস ‘সি’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে। বিশেষত বিমা দিবসের মর্যাদাকে ‘বি’ থেকে উন্নীত করে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, ‘বি’ ক্যাটাগরির দিবসগুলো পালনে সরকারি কোষাগার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের সুযোগ থাকবে এবং এসব আয়োজনে মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে ‘সি’ ক্যাটাগরির দিবসগুলো সংশ্লিষ্ট খাতভিত্তিক নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হবে এবং এর জন্য কোনো আলাদা সরকারি বরাদ্দ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন ও অপ্রয়োজনীয় উদযাপন এড়াতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কৃচ্ছ্রসাধনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অপ্রাসঙ্গিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার পরিবর্তে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং গণমাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে দিবসগুলো পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী দিবস বা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মতো বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রীয় উদযাপন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও সময়োপযোগী করতেই এই আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।