বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সিলেটের ছয় আসনে অধিকাংশ প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় বিদেশি টাকায়

বিদেশে থাকা স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের অর্থে নির্বাচনী ব্যয় মেটাচ্ছেন সিলেটের সংসদীয় আসনগুলোর বড় অংশের প্রার্থীরা। আসন্ন নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ১৭ জনের ব্যয়ের বড় অংশই আসছে প্রবাস থেকে—এমন তথ্য উঠে এসেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে।

সিলেটের ছয় আসনে অধিকাংশ প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় বিদেশি টাকায়
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে থাকা স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের অর্থে নির্বাচনী ব্যয় মেটাচ্ছেন সিলেটের সংসদীয় আসনগুলোর বড় অংশের প্রার্থীরা। আসন্ন নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ১৭ জনের ব্যয়ের বড় অংশই আসছে প্রবাস থেকে—এমন তথ্য উঠে এসেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে মোট ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন। এর মধ্যে তাঁর নিজের আয় থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ফ্রান্সপ্রবাসী এক শুভানুধ্যায়ী দেবেন ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে থাকা দুই চাচাতো ভাই এবং দেশে থাকা এক খালাতো বোনের কাছ থেকে আসবে আরও ১৫ লাখ টাকা।

প্রবাসী অর্থে নির্ভরতা বেশি, নিজ আয়ে ব্যয় কম

হলফনামার হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র নয়জন পুরোপুরি নিজ আয়ের টাকায় নির্বাচন পরিচালনা করবেন। একজন প্রার্থী সম্পূর্ণ দানের অর্থে ব্যয় চালাবেন। বাকি প্রার্থীরা স্ত্রী, সন্তান, ভাই–বোন, আত্মীয়স্বজনের দান, ধারকর্জ, টিউশন আয়ের টাকা কিংবা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অনুদানের ওপর নির্ভর করছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় জাতীয় ও স্থানীয়—দুই পর্যায়ের নির্বাচনেই প্রবাসী প্রার্থী ও প্রবাসী অর্থের ভূমিকা স্পষ্ট। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

সিলেট-১ (মহানগর ও সদর)

এ আসনে আটজন প্রার্থী রয়েছেন। তিনজন নিজ আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী অর্থে ব্যয় চালাবেন।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া ব্যয় করবেন ২৬ লাখ টাকা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান ব্যয় করবেন প্রায় ৯ লাখ টাকা।

সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ব্যয় করবেন ৫ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। জামায়াতে ইসলামীর হাবিবুর রহমান ব্যয় করবেন ৩০ লাখ টাকা। সবচেয়ে কম ব্যয় করবেন বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল—৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর)

এখানে পাঁচজন প্রার্থীই প্রবাসী উৎস থেকে অর্থ পাচ্ছেন।

বিএনপির তাহসিনা রুশদী ব্যয় করবেন ২০ লাখ টাকা।

খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ব্যয় করবেন ১১ লাখ টাকা।

ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন ব্যয় করবেন প্রায় ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

গণফোরামের মো. মুজিবুল হক ব্যয় করবেন মোট ২০ লাখ টাকা।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ)

ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন পুরোপুরি নিজ আয়ে নির্বাচন করবেন।

মুসলেহ উদ্দীন রাজু ব্যয় করবেন ৫৯ লাখের বেশি।

মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী ব্যয় করবেন ৪০ লাখ টাকা।

মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ব্যয় করবেন ২০ লাখ টাকা।

অন্য তিনজনের ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসছে প্রবাসী স্বজনদের কাছ থেকে।

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর)

পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের সাঈদ আহমদ প্রবাসী দানের টাকায় ব্যয় করবেন ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ব্যয় করবেন ৩৫ লাখ টাকা। অন্য প্রার্থীদের ব্যয় ৫ থেকে ২৩ লাখ টাকার মধ্যে।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট)

চার প্রার্থীর মধ্যে দুজন প্রবাসী অর্থে ব্যয় চালাবেন।

উবায়দুল্লাহ ফারুক ব্যয় করবেন ১২ লাখ টাকা।

খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ দানের ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ)

এ আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন প্রবাসী অর্থে নির্ভরশীল।

বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী ব্যয় করবেন ৬৫ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম ব্যয় করবেন ২৪ লাখ টাকা।
অন্য দুই প্রার্থীর ব্যয় ২৪–২৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

সার্বিকভাবে, সিলেট অঞ্চলের নির্বাচনে প্রবাসী অর্থ যে বড় ভূমিকা রাখছে, হলফনামার হিসাবই তার স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে।