উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সেনাবাহিনী ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় নগরীর কয়েকটি এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড এক বিবৃতিতে আশরাফিয়েহ, শেখ মাকসুদ, বানি জেইদ, আল-সিরিয়ান, আল-হুল্লুক ও আল-মিদান এলাকায় ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ কারফিউ কার্যকরের ঘোষণা দেয়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সব ধরনের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে না।
আলেপ্পোর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আল জাজিরাকে জানান, সপ্তাহের শুরুতে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আশরাফিয়েহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
৪৩ বছর বয়সী রানা ইসা বৃহস্পতিবার স্নাইপার হামলার আশঙ্কায় পরিবারসহ আশরাফিয়েহ ছেড়েছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, “অনেক মানুষ এলাকা ছাড়তে চায়, কিন্তু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয়ে পারছে না। আমরা খুব কঠিন সময় পার করেছি। আমার সন্তানরা ভয়ে কাঁপছিল।”
এই সহিংসতা এমন সময়ে ঘটছে, যখন ২০২৫ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দামেস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসডিএফ সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
চলতি সপ্তাহে আলেপ্পোতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১৭৩ জন আহত হয়েছেন। সিরীয় সেনাবাহিনীর দাবি, এসডিএফ বেসামরিক এলাকায় আর্টিলারি ও মর্টার হামলা চালিয়েছে। তবে এসডিএফ এই অভিযোগ নাকচ করে জানায়, সরকারপন্থি বাহিনীর ‘নির্বিচার’ গোলাবর্ষণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এসডিএফ-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আশরাফিয়েহ এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পর সেখানে সরকারি বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে এসব ইউনিট বেসামরিকদের সুরক্ষা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কাজ করছে।
এদিকে এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদি বলেন, আলেপ্পোর এই সহিংসতা দামেস্ক সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর অভিযোগ, আলোচনার মধ্যেই কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় ট্যাংক ও আর্টিলারি মোতায়েন করা হয়েছে এবং বেসামরিকদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।