শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

স্কুলের গাছ থেকে আম খাওয়ায় তিন শিশুকে জুতার মালা পরালেন শিক্ষক

বগুড়ায় স্কুলের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অভিযোগে তিন শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি অপমানজনকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষিকা ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্কুলের গাছ থেকে আম খাওয়ায়  তিন শিশুকে জুতার মালা পরালেন শিক্ষক
বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । ফাইল ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় স্কুলের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার অভিযোগে তিন শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি অপমানজনকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষিকা ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তিন শিক্ষার্থীকে ‘আমচোর’ লেখা কাগজ পরানো হয় এবং গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে বিদ্যালয় চত্বর ও শ্রেণিকক্ষ ঘোরানো হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা গোল শাহানারা বেগমকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলে জানা গেছে। সোমবার (৪ মে) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন।

বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের আমগাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খায়। এর পরদিন প্রধান শিক্ষিকা গোল শাহানারা বেগম চতুর্থ শ্রেণির দুইজন এবং পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের বেত্রাঘাত করা হয়। এরপর গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং ‘আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ঘোরানো হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষকও সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর বলেন, ২৮ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের আমগাছ থেকে আম পাড়ে খায়। পরদিন প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম তাদের অফিস কক্ষে ডেকে বেত্রাঘাত করেন এবং পরে গলায় জুতার মালা ও ‘আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে দেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, জুতার মালা তৈরি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের গলায় পরানো পর্যন্ত কাজে অন্য শিক্ষকরাও যুক্ত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ৩ মে অভিভাবকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সময়সীমার মধ্যে জবাব না এলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বুধবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষিকা এবং কয়েকজন শিক্ষক মিলে শিশুদের ডেকে এনে শাস্তি দেন এবং সবার সামনে ঘোরানো হয়। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির মুখে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান। তবে জড়িত সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অধিকাংশ অভিভাবক।