সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সংবিধান সংস্কারের জন্য আন্দোলনে নামবে ১১ দল

সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে দাবি আদায় না হওয়ায় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।

সংবিধান সংস্কারের জন্য আন্দোলনে নামবে ১১ দল
ছবিঃ সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে দাবি আদায় না হওয়ায় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে সমাধানের পথ রুদ্ধ হওয়ায় আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তবে আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে তাদের জোটভুক্ত ১১টি দল অতিদ্রুত বৈঠকে বসে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়। কিন্তু বিরোধী দল স্পষ্ট করেছে যে, গণভোটে জনগণের কাছে সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের ম্যান্ডেট চাওয়া হয়েছিল।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের দেওয়া রায় প্রতিফলিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তাই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি গঠন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক। তিনি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, যদি কোনো কমিটি গঠন করতেই হয়, তবে সেখানে সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য থাকতে হবে। কিন্তু সরকারি পক্ষ এই প্রস্তাব গ্রহণে আপত্তি জানালে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। পরবর্তীতে আইনমন্ত্রী সংসদে বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক সহমত প্রকাশ করলেও শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, তার বক্তব্যকে সেখানে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংসদে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের কাছে আলোচনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে স্পিকার অতীতের উদাহরণ টেনে জানান যে, বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি এবং আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাপ্তি ঘটেছে। এই ঘটনায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতির দেওয়া রায়কে এভাবে অগ্রাহ্য করা চরম অবমাননাকর। তিনি দাবি করেন, জনগণের ইচ্ছাকে ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছিল, যার প্রতিবাদেই তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোটের প্রতিটিতেই জনগণের রায় মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এবারই প্রথম সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়ে ভোট চাওয়ার পর সেই রায়কে অলঙ্ঘন করা হলো। শফিকুর রহমান জানান, সংসদের ভেতরে সংকটের সমাধান না হওয়ায় তারা এখন জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন এবং আন্দোলনের মাধ্যমে গণভোটের দাবি বাস্তবায়ন করবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা সংসদ ত্যাগ করেননি, বরং সংসদের অংশ হিসেবেই রাজপথে তাদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাবেন।