সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কারাবন্দি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘নিপীড়নবিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা ইমিকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে দেশের চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সক্রিয় কর্মী নাহিদুল ইসলাম বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের প্রচলিত সংবিধানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া বা ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করার ওপর কোনো আইনি বিধিনিষেধ আছে কি না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি আইনে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তবে ইমিকে আটকে রাখা অযৌক্তিক। অনতিবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কাউকে কারাবন্দি রাখা একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার পথে প্রধান বাধা।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ইমির মতো একজন প্রগতিশীল নারী নেত্রীকে হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজু ভাস্কর্য থেকেই তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে শপথ নিয়েছেন, সেখানে ইমির মুক্তি অপরিহার্য বলে তারা মনে করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতার কারণে কাউকে মিথ্যা অপবাদে ফাঁসানো হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না।
প্রসঙ্গগত, গত ৮ মার্চ শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ইমিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। তবে ‘স্লোগান ৭১’-এর সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের দাবি, তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। দ্রুত মুক্তি না মিললে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়।