সরকার গঠনের প্রথম মাস পূর্ণ করল বিএনপি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মূল্যায়নের জন্য এক মাস অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময় হলেও, এই অল্প দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দল নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামীর কর্মপন্থা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল, মন্ত্রণালয়গুলো প্রথম দিন থেকেই সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
নির্বাচনি অঙ্গীকারের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করেছে সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার পরিবারকে এর আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এই সুবিধা সর্বজনীন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের জন্য প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানী চালু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ হাজার মসজিদ এবং দেড় হাজারেরও বেশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় এই সুবিধার আওতায় এসেছে, যার অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। উৎসবগুলোতে বিশেষ বোনাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই প্রকল্পে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অন্যতম অঙ্গীকার ‘খাল খনন কর্মসূচি’ ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুরু করেছেন। নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত দিনাজপুর থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছে। এরই মধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে এবং এপ্রিলে আরও ৩৪ হাজার টন আসার কথা রয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থান বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভোক্তা অধিদফতরের অভিযানের ফলে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে ছিল। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাত্রায় মিতব্যয়িতা ও সাধারণ আচরণ সর্বমহলে বেশ নজর কেড়েছে। বিলাসবহুল সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করে নিজের গাড়ি ব্যবহার, ঠিক সকাল ৯টায় অফিস উপস্থিতি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার ও এসির পরিমিত ব্যবহারে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এমনকি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাঁকজমকপূর্ণ চেয়ারের বদলে সাধারণ আসনে বসা এবং সাধারণ পোশাক পরিধানের মাধ্যমে তিনি জনঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মতে, এই পদক্ষেপগুলো কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।