শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৬

ঝিনাইদহ-৪ সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতা ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কাপ-পিরিচ প্রতীকের একাধিক নির্বাচনী অফিস ও তার অনুসারীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৬
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহ-৪ সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতা ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কাপ-পিরিচ প্রতীকের একাধিক নির্বাচনী অফিস ও তার অনুসারীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ রবিবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের থানা রোড এলাকায় অবস্থিত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার নলডাঙ্গা বাজারে অবস্থিত তার নির্বাচনী কার্যালয়ে একদল দুর্বৃত্ত তাণ্ডব চালায়। ওই সময় অফিসে অবস্থানরত ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন ইউপি সদস্য ও ফিরোজের সমর্থক ওয়াজ্জেদ হোসেনসহ তার দুই সন্তান এবং আরও বেশ কয়েকজন কর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও তিনটি মোটরসাইকেল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু উদ্ধার হওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই রাতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হেলাই গ্রামে তার আরেকটি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে স্বতন্ত্র এই প্রার্থী আরও বলেন, গত বুধবার রাতে পুকুরিয়া গ্রামে তার এক সমর্থকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে দুজনকে আহত করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিয়ত তার কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের একপেশে আচরণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে প্রতিপক্ষ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন নিজেরাই নিজেদের অফিস ও দোকানে ভাঙচুর করে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

অন্যদিকে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, সহিংসতার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সজাগ রয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।