শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর আয় কত?

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকা শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমানের সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তার আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। মনোনয়নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় প্রায় পৌনে চার লাখ টাকা।

তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর আয় কত?

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকা শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমানের সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তার আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। মনোনয়নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় প্রায় পৌনে চার লাখ টাকা।

মনোনয়নপত্র অনুযায়ী, আবিদুর রহমানের নগদ অর্থ রয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে থাকা ৫৯টি মামলার মধ্যে বর্তমানে একটি বিচারাধীন ও একটি চলমান রয়েছে।

নির্বাচনি নথি থেকে জানা যায়, মো. আবিদুর রহমান বগুড়া শহরের সবুজবাগ এলাকার আল-আকাবা মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা এবং তিনি মো. আতিকুর রহমানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক এবং বগুড়া শহর জামায়াতের আমির। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স।

আয়ের উৎস হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন— স্থাবর সম্পত্তি থেকে বছরে ভাড়া আয় ৪৫ হাজার টাকা এবং শিক্ষকতা পেশা থেকে আয় ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১৩ হাজার ৬০০ টাকা।

সম্পদের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, তার নিজের ৮ ভরি এবং স্ত্রীর ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। পৈতৃক ও দানসূত্রে পাওয়া ১০টি ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ২৫টি আসবাবপত্র রয়েছে। অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মোট মূল্য ৭ লাখ ১৮ হাজার ৬০০ টাকা, যার বর্তমান মূল্য ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৬০০ টাকা। স্ত্রীর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পত্তির হিসাবে রয়েছে— দান ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১২ দশমিক ৭৫ শতক অকৃষি জমি, যার মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর মালিকানায় তিন শতক জমি রয়েছে, যার মূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এছাড়া একটি আবাসিক দোতলা ভবন রয়েছে, যার প্রথম তলা দানসূত্রে পাওয়া এবং দ্বিতীয় তলা নিজ উদ্যোগে নির্মিত। ভবনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একটি পৈতৃক টিনশেড ঘরও রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্যে তার নিজের ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তার সম্পত্তির মোট মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর সম্পত্তির মূল্য ৩০ লাখ টাকা। মনোনয়নপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, তার নামে কোনো টেলিফোন, বিদ্যুৎ বা পৌর কর বকেয়া নেই এবং তার কোনো ঋণও নেই।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে আবিদুর রহমান তার মোট আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৩ টাকা। সে হিসাবে তার মাসিক আয় দাঁড়ায় ৩১ হাজার ১৯৪ টাকা ৪২ পয়সা। এ আয় অনুযায়ী তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ৩ হাজার টাকা।

আইনগত বিষয়ে মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আবিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর আদালতে একটি ফৌজদারি (হত্যা) মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি মোট ৫৮টি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে ৫৭টিতে তিনি খালাস, নিষ্পত্তি ও অব্যাহতি পেয়েছেন। এসবের মধ্যে ৫২টি মামলা নির্বাহী আদেশে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে বগুড়া সদর আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে।