শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে প্রবল সমালোচনা ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের তোয়াক্কা না করে উত্তর আটলান্টিকের দ্বীপ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যেকোনো উপায়ে কবজায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থান এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিতে ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে চরম অস্বস্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রবল সমালোচনা ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের তোয়াক্কা না করে উত্তর আটলান্টিকের দ্বীপ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যেকোনো উপায়ে কবজায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থান এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিতে ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে চরম অস্বস্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি জানান, লিজ বা চুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, “কিছু দেশের মালিকানা থাকতে হয় এবং মালিকানাই রক্ষা করা যায় লিজ নয়। গ্রিনল্যান্ড আমাদের রক্ষা করতেই হবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ অর্জন করা ওয়াশিংটনের জন্য অপরিহার্য। নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কঠোর বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি “সহজ উপায়ে অথবা কঠিন উপায়ে” বাস্তবায়ন করতে পারে। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কিনে নেওয়ার সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করা হয়নি।

ট্রাম্পের এমন দাবিকে শুরু থেকেই ‘অবাস্তব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্ক সরকার সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট বা ন্যাটোর অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।

শুক্রবার রাতে গ্রিনল্যান্ডের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এক ঐতিহাসিক যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে তারা তাদের জাতিগত পরিচয়ের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিশও হতে চাই না আমরা গ্রিনল্যান্ডার হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডের জনগণই নির্ধারণ করবে।”

বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে এখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং আর্কটিক সমুদ্রপথ নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক (সাবেক থুলে) ঘাঁটিতে শতাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে ট্রাম্পের মতে, বর্তমান চুক্তি বা দীর্ঘমেয়াদী লিজ কোনোটিই যথেষ্ট নয়, কারণ “মালিকানা থাকলে এমন কিছু সুবিধা পাওয়া যায় যা কেবল দলিলে স্বাক্ষর করে সম্ভব নয়।”

ইউরোপের প্রধান দেশগুলো এবং কানাডা ইতিমধ্যে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার আন্তর্জাতিক নীতি অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। ডেনমার্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্কটিকের নিরাপত্তা মিত্রদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করা হবে, কোনো একক দেশের জবরদস্তিতে নয়।

ট্রাম্পের এই ‘গ্রিনল্যান্ড নীতি’ কেবল কূটনীতিতে নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্থিতিশীলতায় এক বড় ধরণের কম্পন সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন তাদের এই ‘কঠিন পথের’ হুমকিকে বাস্তবে কতদূর নিয়ে যায়।