শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বিতর্কিত মন্তব্য ইউরোপজুড়ে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বুধবার সুইস আল্পসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন।" খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বিতর্কিত মন্তব্য ইউরোপজুড়ে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বুধবার সুইস আল্পসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন।" খবর বিবিসি।

তবে ট্রাম্প হয়তো ভুলে গেছেন, সুইজারল্যান্ডের চারটি সরকারি ভাষার মধ্যে জার্মান ভাষাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এ মন্তব্য ব্রাসেলস, বার্লিন এবং প্যারিসের অনেকের কাছে তথ্যগতভাবে ভুল এবং অপমানজনক হিসেবে ধরা হয়েছে।

ফোরামে ট্রাম্পের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপকে ‘ভুল পথে’ এগোচ্ছে বলে দেখানো। তিনি প্রায়ই এমন মন্তব্য করেন, তবে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে বন্ধু ও মিত্রদের সামনে এমন মন্তব্যের প্রভাব আলাদা।

ফোরামের আলোচনায় ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের সামরিক সম্ভাবনা বাতিল করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তিনি প্রকাশ্যভাবে জানান, আর্কটিক অঞ্চলে তার আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট। পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি তিনি তুলে নিচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক ইস্যুতে “একটি চুক্তির কাঠামো” তৈরি হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা অর্জন কিভাবে সম্ভব হবে, তা স্পষ্ট নয়।

প্রসঙ্গত, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, “সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও প্রেসিডেন্টের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট।”

গ্রিনল্যান্ড সরকারও পরিস্থিতির জন্য একটি ‘নির্দেশিকা’ প্রকাশ করেছে। স্বনির্ভরতা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার বর্গ বলেন, এটি অনেকটা ‘বীমা পলিসি’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, তবে আশা করা হচ্ছে ব্যবহার করতে হবে না।

ট্রাম্পের মন্তব্য ইউরোপে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ন্যায্য দাবি হিসেবে দেখাচ্ছেন, যদিও বাস্তবে এটি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল না। এছাড়া, তিনি ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছুই করেনি। বিশেষ করে ডেনমার্ককে তাচ্ছিল্য করে বলেন, ১৯৪০ সালে মাত্র ছয় ঘণ্টার লড়াইয়ে তারা জার্মানির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।

ফোরামে তার ১ ঘণ্টা ১২ মিনিটের বক্তৃতার শুরুতেই ট্রাম্প গর্ব করে বলেন, “দেশের মানুষ আমার ওপর খুব খুশি।” তবে ইউরোপে তার গণতন্ত্র ও কূটনৈতিক আচরণের চিত্র খুব ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।