দেশের বিচার বিভাগে আমূল পরিবর্তন এবং পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পাসের জোর দাবি জানিয়েছে বিচারকদের সংগঠন ‘ইয়াং জাজেস ফর জুডিশিয়াল রিফর্ম’।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশটিকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা রক্ষায় সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনেরও অনুরোধ জানানো হয়। সাড়ে আট শতাধিক সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠনটি উল্লেখ করে যে, বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছরের ৩০ নভেম্বর এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। এটি মূলত ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায় এবং সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে প্রণীত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের সেই যুগান্তকারী রায়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করার নির্দেশ দেওয়া হলেও ২০০৭ সালের আংশিক পৃথকীকরণের পর অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী বিভাগের হাতেই থেকে গিয়েছিল। বর্তমান অধ্যাদেশটি সেই অসম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেওয়ার একটি কার্যকর সূচনা।
সংগঠনটি আরও মনে করিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারি দল বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার ৯ নম্বর দফায় মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। যেখানে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের পূর্ণ কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা এবং একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা স্পষ্ট বলা আছে। এছাড়া দলটির নির্বাচনী ইশতেহারেও বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনতে সংবিধান সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হওয়ায় এই জাতীয় ঐকমত্যকে সম্মান জানানো নির্বাচিত সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। ইয়াং জাজেস ফোরাম প্রত্যাশা করে, জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার আইনের শাসন ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় এই অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।







