জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলের কপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২৬’ পাসের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিলের নথি সময়মতো হাতে না আসায় সংসদ সদস্যরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন কার্যপ্রণালি বিধির উদ্ধৃতি দিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিধি অনুযায়ী কোনো বিল বা প্রস্তাব উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে তার অনুলিপি সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর কথা। বিলের কপি সদস্যদের ব্যবহারের জন্য না দেওয়া পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব পেশ করার সুযোগ নেই এবং কপি পেতে দেরি হলে যেকোনো সদস্য এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অধিকার রাখেন।
নিজের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমরা তো বিল বা প্রস্তাব সময়মতো পাইনি। ৪৯ পৃষ্ঠার একটি বিশাল দলিল আমাদের মাত্র কিছুক্ষণ আগে দেওয়া হলো। এত অল্প সময়ে এটি পড়ে মতামত দেওয়া কীভাবে সম্ভব?” তিনি স্পিকার ও আইনমন্ত্রীর পেশাগত দক্ষতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা দুজনেই বড় আইনজীবী ও ব্যারিস্টার, আপনারা বিষয়টি ভালো বোঝেন। কিন্তু আমাদের মতো নতুন সংসদ সদস্যদের এটি বোঝার সুযোগ দিতে হবে। আমরা এখানে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি।” সাড়ে তিনটার সময় নথি দিয়ে তাৎক্ষণিক মতামত চাওয়াকে তিনি অযৌক্তিক বলে দাবি করেন।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কাইসার কামাল পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, বিধিতে তিন দিনের কথা উল্লেখ থাকলেও স্পিকারের একটি বিশেষ ক্ষমতা বা ‘স্পেশাল অথরিটি’ রয়েছে। স্পিকার চাইলে সেই সময়সীমা শিথিল বা মওকুফ করতে পারেন এবং সেই ক্ষমতার বলেই বিলটি অধিবেশনে উপস্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট করার পর তিনি সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। তবে বিল পাসের প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।







