সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি দাবি করেছেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বর্তমানে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির জন্য একক কেউ নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, দেশের বর্তমান অস্থিরতার পেছনে সব শ্রেণির মানুষেরই কমবেশি ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক—সবার অবহেলার কারণেই অর্থনীতির এই করুণ দশা হয়েছে। তবে সংকটের প্রধান উৎস হিসেবে তিনি রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী এবং আমলাদের মজ্জাগত 'অভাববোধ' ও 'লোভ'-কে দায়ী করেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত চাহিদার অপূর্ণতাই তাদের দুর্নীতির পথে ধাবিত করছে।
বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদরা মানসিকভাবে অভাবগ্রস্ত। যখন এমন কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আসনে বসেন, যাঁর নূন্যতম স্থাবর সম্পত্তি বা বিলাসিতার অভাব রয়েছে, তখন বিশাল অংকের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা হাতে পেলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। একটি মাত্র স্বাক্ষরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হলে সেই ব্যক্তি ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে দুর্নীতির ফাঁদে পা দেন।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি আমলা কিংবা সাংবিধানিক পদের অধিকারী ব্যক্তিরা যখন তাদের পদের ক্ষমতার চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত লালসাকে বড় করে দেখেন, তখনই রাষ্ট্রের অর্থ তছরুপের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই মানসিক দীনতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্মিলিত ফলেই দেশ আজ এমন মহাসংকটে নিমজ্জিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মূলত নীতিনির্ধারকদের এই মোহ ও অনৈতিক আকাঙ্ক্ষাই জাতীয় অর্থনীতি ধ্বংসের পেছনে প্রাথমিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।







