বলিউড মেগাস্টার সালমান খানের মুম্বাইয়ের বাসভবন ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় চলমান মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে অভিনেতার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী জানিয়েছেন, সালমান খানকে প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই সেই হামলা চালানো হয়েছিল। প্রায় দুই বছর আগের এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া গত মাসে শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সালমানের দেহরক্ষী ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ভোর চারটার দিকে তিনি হঠাৎ আতশবাজির মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। প্রথমে সাধারণ শব্দ মনে হলেও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সিসিটিভিতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই বন্দুকধারী ভবন লক্ষ্য করে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে।
দেহরক্ষী আরও জানান, শব্দ পাওয়ার পরপরই তিনি এবং অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। হামলার সময় সালমান খান তার বাসভবনের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর থেকে অভিনেতার নিরাপত্তা জোরদার করে বর্তমানে তাকে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
মামলার অপর এক সাক্ষী, যিনি ওই সময় লবিতে দায়িত্বরত পুলিশ প্রহরী ছিলেন, তিনিও শনিবার আদালতে তার জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, লবিতে থাকায় সরাসরি গুলি করার দৃশ্য দেখতে না পেলেও পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গুলির খোসা পড়ে থাকতে দেখেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল সংঘটিত এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও অনমোল বিষ্ণোই। তদন্তকারী পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ভিকি গুপ্তা এবং সাগর পাল সরাসরি এই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। হামলার দুই দিন আগে পুরো এলাকাটি রেকি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অনমোল বিষ্ণোই বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদলতে এই সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







