ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের শতাধিক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বড় ধরনের এই অসুস্থতার পেছনে পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ দায়ী হতে পারে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি হলের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর থেকেই পানি থেকে তীব্র ব্লিচিং পাউডারের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। মুখ ধোয়া কিংবা কুলি করার সময় এই উৎকট গন্ধে অনেকেরই বমিভাব শুরু হয় এবং গোসলের পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হলের ক্যান্টিনের নোংরা পরিবেশ এবং খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ক্যান্টিনের রান্নায় ব্যবহৃত পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ অসুস্থতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি যারা বাইরের খাবার খান, তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ায় পানির সংক্রমণের বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে হলের অনেক শিক্ষার্থীই নিরুপায় হয়ে দোকান থেকে পানি কিনে পান করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী জানিয়েছেন, গত দুই দিনে অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী ডায়রিয়া ও বমিজনিত সমস্যার কারণে চিকিৎসা কেন্দ্রে এসেছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে হলে একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রায় একশ শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলেও বর্তমানে তাদের চিকিৎসায় দুজন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। ডায়রিয়া ও বমির উপসর্গগুলো সাধারণত দূষিত পানি বা নিম্নমানের খাবারের মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে।
হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা সুলতানা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা ও হলের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পেশাদার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে হলের পানির চৌবাচ্চাগুলো নতুন করে পরিষ্কার করা হয়েছে। আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এখন ক্রমান্বয়ে কমে আসছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।







