বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার সেতুবন্ধন তৈরিতে ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি পূর্ণকালীন বৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্প এবং ‘পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়।
নতুন এই প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), কৃষি ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন আধুনিক ও কারিগরি বিষয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তান হায়ার এডুকেশন কমিশনের (এইচইসি) প্রকল্প পরিচালক জেহানজেব খান জানান, মোট ৫০০টি বৃত্তির মধ্যে এ বছরই ১৩০ জন শিক্ষার্থীকে এই সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া মেলায় অংশ নেওয়া পাকিস্তানের শীর্ষ ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের পক্ষ থেকে আরও কয়েকশ বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
জেহানজেব খান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দুই দেশের সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের সাদৃশ্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি জানান, পাকিস্তানের অন্তত ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বখ্যাত কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে স্থান করে নিয়েছে এবং সেখান থেকে ডিগ্রি অর্জনকারীরা পরবর্তীতে উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পান। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যাতে আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় জ্ঞান অর্জন করতে পারে, সেটাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
রাজধানী ঢাকার পর আগামী ১০ দিনে দেশের আরও পাঁচটি প্রধান শহরে এই শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। এসব মেলায় শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয় নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। এই ‘আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপ’ মূলত একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত প্রকল্প, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা খরচে পড়তে পারবেন। এছাড়া দুই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও যৌথ গবেষণার বিষয়েও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা খাতের নতুন এই দিগন্ত উন্মোচিত হয়।







