আর্কাইভ
ads
logo

দাবানলের ধোঁয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কানাডার ওপর শুল্ক চাপাতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ এ.এম
দাবানলের ধোঁয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কানাডার ওপর শুল্ক চাপাতে চান ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

ads

সীমান্তবর্তী দেশ কানাডায় সৃষ্ট তীব্র দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া বিস্তীর্ণ আমেরিকান ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওটাওয়া প্রশাসনের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে ওয়াশিংটনকে যে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা পুষিয়ে নিতে কানাডিয়ান পণ্যের ওপর চলমান শুল্কের হার আরও বৃদ্ধি করা হবে।


সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ তোলেন, কানাডা সরকার তাদের বনাঞ্চল সঠিকভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের এই উদাসীনতার মাশুল হিসেবে আমেরিকান নাগরিকদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত বায়ুর মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ কাঠামোগত গাফিলতি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই অবহেলার কারণে মার্কিন অর্থনীতি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছে। ফলে এই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব কানাডার রপ্তানি পণ্যের ওপর নতুন করে কর আরোপের মাধ্যমে উসুল করা যৌক্তিক।

চলতি সপ্তাহের শেষভাগে কানাডার বনাঞ্চলে লাগা শত শত অগ্নিকাণ্ডের ঘন ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশ পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। বাতাসের মান মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য সতর্ক করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য সংকট সমাধানে ওটাওয়া আসলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা তিনি সরাসরি জানতে চাইবেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে পরিবেশবিজ্ঞানীরা অবৈজ্ঞানিক বলে মনে করছেন। গবেষকদের মতে, জলবায়ুর সামগ্রিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলেই মূলত বনাঞ্চলের শুষ্কতা বাড়ছে এবং দাবানলের প্রকোপ তীব্র হচ্ছে। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মাইক ফ্ল্যানিগান জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া মূলত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রধান কারণ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর কানাডার অন্টারিও প্রদেশে রেকর্ড পরিমাণ বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের পুরো এলাকা আগুনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার অগ্নিনির্বাপণের জন্য একঝাঁক নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে শুধু কানাডাই নয়, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বুকেও এবার দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং দেশটির প্রায় ৩৭ লাখ একর জমি ইতোমধ্যে পুড়িয়ে ছাই করেছে, যা গত দশ বছরের স্বাভাবিক হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ