উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব ও বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে ইসলামাবাদ। দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনাটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চরম সামরিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উলেখ্য, বিগত ২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তান ও কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া ও সামরিক প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে একটি সীমিত আকারের চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কুয়েত এখন ইসলামাবাদের সঙ্গে এমন একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত চুক্তি করতে আগ্রহী, যা মূলত রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তানের বিদ্যমান ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর অনুরূপ হবে।
ইসলামাবাদের একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ করেছেন যে, কুয়েত তাদের দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সৈন্য মোতায়েনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সামগ্রিক সামরিক সহায়তা চাইছে।
অবশ্য ওটওয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির অনুরোধে পাকিস্তান কতটুকু সাড়া দেবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। কারণ সৌদি আরবের সাথে ইসলামাবাদের যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক, তা দীর্ঘ কয়েক দশকের নিবিড় ও গভীর বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা হুট করে অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা কঠিন।
পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, কুয়েতের পক্ষ থেকে প্রায় সব ধরনের সামরিক লজিস্টিক ও জনবল সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে ইসলামাবাদ এই মুহূর্তে কোনো অবস্থাতেই মধ্যপ্রাচ্যের কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে বা সম্ভাব্য সংঘাতের মুখে নিজেদের সেনা মোতায়েন করার কথা ভাবছে না।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সূত্রগুলোও নিশ্চিত করেছে যে, সমরাস্ত্র ক্রয় ও সামরিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানাবিধ কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে এই সংলাপ শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা দেখার জন্য আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।







