- সারাদেশ
- ফটিকছড়িতে চলছে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল
-
ফটিকছড়িতে চলছে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পি.এম
চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র বা সদর দপ্তর সুবিধার স্থানে স্থাপনের দাবিতে দুই দিনব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে আয়োজিত এই ধর্মঘটের কারণে সাধারণ পথচারী ও গণপরিবহন চালকেরা তীব্র বিপাক ও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রোববার ভোর থেকেই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি, টায়ারে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিবাদি মিছিল কর্মসূচি পরিচালনা করেন আন্দোলনকারীরা। ফলে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি সংযোগকারী প্রধান সড়কসহ আশপাশের উপ-সড়কগুলোতে দূরপাল্লা ও স্থানীয় পরিবহন চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। যেকোনো প্রকার অপ্রত্যাশিত সহিংসতা এড়াতে পুরো এলাকা জুড়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রেখে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ভোর থেকেই অধিকাংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসাসেবা, ফার্মেসি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিত্যপণ্যের দোকানপাট এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসনিক অনিয়মের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সদর দপ্তরটি অনুপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। উত্তর অংশের প্রশাসনিক কেন্দ্র অবশ্যই ভৌগোলিক বিবেচনায় সুবিধাজনক স্থানে হতে হবে, তা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।
শিরোনাম: প্রাথমিকে সরবরাহিত রুটিতে ব্লেড উদ্ধার: টঙ্গীর খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানায় তদন্ত দল
বরিশালের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের টিফিনে দেওয়া খাদ্যপণ্যের ভেতর ধারালো ব্লেড পাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা পরিদর্শন করেছে সরকারি তদন্ত কমিটি। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণ উদ্ঘাটন ও মূল সত্য বের করতে টঙ্গীতে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত এই তদন্ত দল দীর্ঘ সময় কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিশু টিফিনের রুটি খণ্ডানোর সময় ভেতরে প্লাস্টিক মোড়ানো বা উন্মুক্ত ব্লেডের উপস্থিতি দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে এই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হয়েছে।
অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কোকোলা ফুড প্রোডাক্টের কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিক আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করা হয়, যেখানে বাহ্যিক কোনো ক্ষতিকর বস্তু প্রবেশের সুযোগ নেই। এই ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগৃহীত তথ্য ও আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।