- জাতীয়
- ১০ দিনের ব্যবধানে মালদ্বীপে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু
-
১০ দিনের ব্যবধানে মালদ্বীপে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭ এ.এম
স্বল্প সময়ে দ্বীপাঞ্চলীয় দেশ মালদ্বীপে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির জীবনাবসানের পর প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত পঁচিশে জুলাই থেকে তেসরা আগস্টের মধ্যবর্তী মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে সেখানে অবস্থানরত আটজন বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন।
দ্বীপরাষ্ট্রটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে জানা যায়, প্রয়াত এই নাগরিকদের বয়স ছিল একুশ থেকে সত্তরের কোঠায়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকে চারজন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে দুইজন, পেশাগত কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনায় দুজন এবং একজন আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৫ জুলাই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ২৩ বছর বয়সের যুবক রবিউল ইসলাম রোশন। পরবর্তী সময়ে ২৭ জুলাই ২৭ বছর বয়সী হুমায়ুন কবির ও ২৮ জুলাই ৪৭ বছর বয়সী মকবুল মিয়া স্ট্রোকের শিকার হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এছাড়া ৩০ জুলাই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিসজনিত শারীরিক জটিলতা থেকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৪৫ বছর বয়সের শেখ ফরিদ।
পরবর্তী মাস অর্থাৎ ১ আগস্ট তারিখে অসাবধানতাবশত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রবণ থিনার সেবন করায় ২১ বছরের তরুণ সুলাইমান মাতাব্বারের প্রাণহানি ঘটে। একই তারিখে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে প্রাণ হারান ৪৪ বছর বয়সের সৈয়দ মোল্লা এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ৩৭ বছর বয়সী বদিউর রহমানের। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট ৭০ বছর বয়সি দেলওয়ারা নবী নামের আরও এক বাংলাদেশি প্রবীণ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব মুত্তাসিম বিল্লাহ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রয়াত আটজনের মধ্যে ইতিমধ্যে পাঁচজনের মৃতদেহ পরিবারের কাছে ফেরত পাঠাতে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহগুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বদেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে তিনি দ্বীপপুঞ্জটিতে কর্মরত সমস্ত অভিবাসী নাগরিককে নিজেদের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে বাড়তি যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন।
সরকারি হিসাবমতে, মালদ্বীপে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ছিয়ানব্বই হাজার বিদেশি অধিবাসী বসবাস করছেন, যা সেখানকার মোট জনসংখ্যার তুলনায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিশাল আন্তর্জাতিক জনগোষ্ঠীর একটি প্রধান অংশ জুড়েই রয়েছে বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়।
স্থানীয় প্রবাসীদের একাংশের অভিমত, আপনজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা জনিত মানসিক টানাপোড়েন এবং আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে অনেকের শারীরিক ঝুঁকি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এই প্রয়াণগুলোর পেছনে প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত এবং নথিপত্রের বরাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে।