- জাতীয়
- এনসিপি এখন জামায়াতের শিশু সংগঠন
-
এনসিপি এখন জামায়াতের শিশু সংগঠন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পি.এম
ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ধরে রাখতে পারেনি, বরং এটি এখন জামায়াতে ইসলামীর অনুগত একটি অঙ্গ সংগঠনে রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শনিবার ঝিনাইদহ সদরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান মিয়ার দালান ঘুরে দেখার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দলটির বর্তমান সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ডা. তাসনিম জারার মতো প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একাধিক প্রতিনিধি ইতিপূর্বে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। মূলত জামায়াতের সাথে দলটির অতি ঘনিষ্ঠতা ও একীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখেই এই উদীয়মান নেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পৃথক শক্তি হিসেবে এনসিপির নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব বেঁচে নেই, এটি এখন জামায়াতের একটি আশ্রিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
গত বছরের গণআন্দোলনের একক কৃতিত্ব হাসিলের অপচেষ্টা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, অভ্যুত্থানের সার্বিক সাফল্য নিজেদের ঝুলিতে পুরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম এবং মাহফুজ আলম বিভিন্ন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে নিজেদের আন্দোলনের মূল রূপকার হিসেবে দাবি করে আসছেন, যেখানে মাহফুজ আলম প্রকৃতপক্ষে নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন।
একইসাথে জামায়াত আমিরের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতের শীর্ষনেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রকৃত রূপ সবার সামনে ভেসে উঠেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে আগাম ক্ষমা প্রদর্শনের বার্তা দিয়ে তিনি গণমানুষের এই মহাজাগরণের সাথে প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এনসিপির অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও আদর্শিক বৈপরীত্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপির প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম একসময় জামায়াতকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী বললেও পরবর্তীতে তারা নিজেরাই সেই গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে গেছেন। এমনকি নির্বাচনে অংশ নেওয়া এনসিপির প্রার্থীদের সমুদয় খরচ জোগানোর দায়িত্বও জামায়াত বহন করেছে।
অবশ্য আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন, ফ্যাসিবাদী সরকার পতন ও এক দফা দাবির আনুষ্ঠানিক বার্তাটি নাহিদ ইসলামের মাধ্যমেই এসেছিল। তবে সেই ঐতিহাসিক এক দফা ঘোষণার উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট এদেশের আপামর সাধারণ জনগণই তৈরি করেছিল।
উক্ত পরিদর্শনের সময় ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান ও গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধি সুলাইমান হোসেনসহ বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।