- জাতীয়
- নদীদূষণ রোধে অবহেলার সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী
-
নদীদূষণ রোধে অবহেলার সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ এ.এম
দেশের নদ-নদীর দূষণ মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে নদী সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের শৈথিল্য পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কঠিন দায়বদ্ধতার মুখে পড়তে হবে। কেবল পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, বরং তার দ্রুত ও কঠোর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। প্রশাসনিক দপ্তর সচিবালয়ে আয়োজিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সামগ্রিক বৈঠকের তথ্য অবহিত করে সরকারের প্রেস দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, সরকারপ্রধান রাজধানী ও এর আশপাশের নদীগুলোর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আশু ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে জোর দিয়েছেন। সভায় বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীর বর্তমান সংকটজনক অবস্থা, দূষণের পেছনের প্রধান উৎসসমূহ এবং স্থায়ী সমাধানের পথ নিয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যতিরেকে কারখানার বিষাক্ত তরল নির্গমন, দুর্বল ড্রেনেজ কাঠামো, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হওয়া এবং পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবকে এই সংকট সৃষ্টির মূল নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে কারখানাসমূহে শোধনাগার সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং নগর নালাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
একইসঙ্গে পরিবেশ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সরকারি দফতরগুলোর ভেতর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সার্বিক কার্যক্রমে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের যুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ বিভাগ, নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নগর প্রশাসনিক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অংশীদারিত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। পরবর্তীতে চারপাশের নদীসমূহ রক্ষায় একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তদারকির জন্য শীর্ষ নির্বাহী দপ্তরের অধীনে একটি বহুমুখী আন্তঃসংস্থা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এই কমিটি গৃহীত কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় মন্ত্রিপরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ, নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রশাসনের শীর্ষ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের ঊর্ধ্বতন পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।