- জাতীয়
- ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল: চিফ হুইপ
-
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল: চিফ হুইপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২১ পি.এম
বিগত চব্বিশের আগস্ট মাসের গণআন্দোলন ছিল সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ও ঐক্যবদ্ধ শক্তির বহিঃপ্রকাশ, যার মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরায় চালুর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
তিনি উল্লেখ করেন, একাত্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও চব্বিশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন সেই অর্জনকে রক্ষা করা এবং গণতন্ত্রকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আজ সপ্তাহের মাঝের দিনে সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে 'জুলাই অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত সৃজনশীল রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার প্রদান এবং আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন। এর পূর্বে তিনি প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারীদের মাঝে উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করেন।
উক্ত আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশ করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
বক্তব্যের শুরুতেই চিফ হুইপ আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে উল্লেখ করেন, চব্বিশের এই অভ্যুত্থান দমন করতে গিয়ে অগণিত সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি অতীত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, বিদায়ী সরকার ব্যবস্থা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে এবং গোপন বন্দিশালা ও মামলা-হামলার মাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। সেই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ও ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বর্তমান সংসদীয় কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত পাঁচ মাসে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট সংক্রান্ত দু'টি প্রধান অধিবেশন সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। একটি দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিদ্যমান অবস্থা বিবেচনায় বর্তমান সংসদের সদস্যগণ সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত গাড়ি বা সরকারি জমি গ্রহণ না করার যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একইসাথে জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় সংসদের যৌথ প্রয়াস ইতিবাচক ফল এনেছে বলে তিনি জানান।
সংবিধান প্রসঙ্গ টেনে নূরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, কাঠামোগত পরিবর্তন বা আইনি সংস্কারের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশাসন ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। প্রতিবেশী ভারতের সংবিধানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিগত পৌনে এক শতাব্দীতে তারা শতাধিকবার আইনে পরিবর্তন এনেছে। তাই নতুন প্রজন্মের জন্য একটি স্বাবলম্বী ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে সংবিধানে প্রয়োজনীয় যেকোনো সংযোজন-বিয়োজন করা যেতেই পারে।
শাসন ও বিরোধী শিবিরের সকল প্রতিনিধিকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সমস্ত সংকট ও বৈষম্য নিয়ে রাজপথের বদলে জাতীয় সংসদেই মূল আলোচনা হওয়া উচিত। সংসদকে সমস্ত সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রে পরিণত করে একটি টেকসই ও শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার তাগিদ দেন তিনি।