গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক শিক্ষার্থীর মায়ের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মাদরাসার তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আবু সাঈদ নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার ডাকবাংলোসংলগ্ন লালমাটিয়া নুরানী ক্যাডেট মাদরাসার ফরিদুল ইসলাম, মো. আবু সাঈদ (৩৬) ও মোহন মাস্টার (৩৪)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই নারীর স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকেন। তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার বুজরুক বোয়ালিয়া প্রগতিপাড়ায় বসবাস করেন। মেয়েকে মাদরাসায় নিয়ে যাওয়া ও সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার সময় শিক্ষক ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে ফরিদুল ইসলাম কৌশলে ওই নারীর কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো আবু সাঈদ ও মোহন মাস্টারের কাছে পাঠানো হয়। এরপর ওই ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নারীর কাছে টাকা দাবি করতে থাকেন তাঁরা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ অক্টোবর মেয়ের বিষয়ে জরুরি কথা বলার কথা বলে ওই নারীকে মাদরাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আবু সাঈদ ও মোহন মাস্টার তাঁকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন। টাকা না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার আশ্বাসে ওই নারী অভিযুক্তদের ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার দেন। কিন্তু এরপরও তাঁরা বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করতে থাকেন।
সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে মুঠোফোনে ওই নারীর কাছে আরও ৫২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে গেলে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আবু সাঈদ ও মোহন মাস্টার পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ২৫ অক্টোবর গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় ফরিদুল ইসলাম ও মোহন মাস্টারসহ তিন শিক্ষককেই আসামি করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, ‘মামলার অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’