বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পাঁচ বছরে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কমে যেতে পারে: জর্জেস এলহেদেরি

ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বিকল্প পরিবহনপথ ও অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বহুজাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি।

পাঁচ বছরে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কমে যেতে পারে: জর্জেস এলহেদেরি
এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি। ছবি: সংগ্রহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বিকল্প পরিবহনপথ ও অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বহুজাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি।

মঙ্গলবার দুবাইয়ে এইচএসবিসির ‘ফিউচার ফোরাম’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরতা নতুন করে সামনে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত জ্বালানি পৌঁছে দিতে পাইপলাইন নির্মাণে বাধ্য হচ্ছে। এলহেদেরির মতে, এ ধরনের অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা হলে যুদ্ধ চললেও আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। এতে দেশগুলো বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পেতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি এই অঞ্চল আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং আরও উন্নত হবে। এর জন্য প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। অবশ্যই, আমরা সংঘাতের সমাধান দেখার ইচ্ছা ও আশা রাখি... তবে হরমুজ প্রণালি সম্ভবত আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে।”

এইচএসবিসির সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্কে বর্তমানে ৮৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ। দুবাইভিত্তিক নির্মাণশিল্পবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মিড’-এর তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এইচএসবিসির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি ব্যবসায়ী নেতা এবং প্রায় ৮২০ জন বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী উপসাগরীয় অঞ্চলকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।

তবে যুদ্ধের কারণে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বিশ্বব্যাংক গত সপ্তাহে পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পাকিস্তান অঞ্চলের অর্থনীতি ১ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তবে ২০২৭ সালে অর্থনীতি আবার শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অঞ্চলটির সব দেশে পুনরুদ্ধারের গতি একই রকম হবে না।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর প্রাণঘাতী হামলার কারণে সৌদি আরবের একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে এলহেদেরিরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল।