বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

এটাই শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট’, ইউনূসকে হেনস্তা নিয়ে সোহেল তাজ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি এবং গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার হরণের দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এটাই শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট’, ইউনূসকে হেনস্তা নিয়ে সোহেল তাজ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি এবং গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার হরণের দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন সোহেল তাজ। তিনি লেখেন, নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার ভিডিও দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন।

সোহেল তাজ বলেন, যারা নিজেরাই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই এখন সেসবের দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটাই হচ্ছে সাবেক স্বৈরাচার পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট, এই ট্যাবলেট খেয়ে এদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।’

এ ধরনের আচরণকে মনোবিজ্ঞানীরা দুটি শ্রেণিতে ব্যাখ্যা করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর একটি গ্যাসলাইটিং, অন্যটি প্রজেকশন।

গ্যাসলাইটিং হলো এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার ও মানসিক নির্যাতন। এ প্রক্রিয়ায় কেউ পরিকল্পিতভাবে অন্য ব্যক্তিকে ভুল তথ্য দেন কিংবা ঘটে যাওয়া ঘটনা অস্বীকার করেন। ফলে ভুক্তভোগী নিজের স্মৃতি, উপলব্ধি, বিচারবুদ্ধি ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দেহে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে, মনস্তাত্ত্বিক প্রজেকশন হলো আত্মরক্ষার একটি মানসিক প্রক্রিয়া। এতে ব্যক্তি নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অগ্রহণযোগ্য চিন্তা, অনুভূতি, উদ্দেশ্য কিংবা অনিরাপত্তা অন্যের ওপর আরোপ করেন।

এর আগে স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে চিৎকার ও কটূক্তি করেন। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশের গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং নানা অভিযোগ তোলেন।

হুইলচেয়ারে থাকা ড. ইউনূসের কাছে হঠাৎ এগিয়ে এসে তাঁরা উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। তাঁদের ‘Why you come here...’—অর্থাৎ, ‘আপনি কেন এখানে এসেছেন’—বলতেও শোনা যায়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় ড. ইউনূসের সঙ্গীরা তাঁকে দ্রুত নিরাপদ অবস্থানে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যান।