শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলা: ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলা: ইকবাল সোবহান চৌধুরী কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমির হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি নিরাপত্তায় বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আদালতের হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর মাথায় হেলমেট, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতে হাতকড়া ছিল। পরে পুলিশ তাঁর হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেয় এবং এক হাতের হাতকড়াও খুলে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি আইনজীবী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন। বিকেল ৪টা ১ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব রাগীব বলেন, তাঁরা আসামির জামিন চাননি। তিনি একজন বয়স্ক সাংবাদিক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁর বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় কারাগারে ডিভিশন সুবিধা দেওয়ার আবেদন জানান আইনজীবী।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টার পদসহ নানা সুবিধা নিয়েছেন। ওই পদ ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরী আন্দোলনের বিরোধিতা করে শেখ হাসিনার পক্ষে বক্তব্য তৈরি করেছেন। তাঁর জন্য কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য নন যে তাঁকে ডিভিশন দিতে হবে।

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আবারও ডিভিশন দেওয়ার আবেদন জানান। জবাবে বিচারক বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী উনি যে সুবিধার প্রাপ্যতা রাখেন তিনি সেটাই পাবেন। এটি আমি লিখে দেব।’

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও পুলিশ নিয়ে যায়। তবে পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আরিফ হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আরিফের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, এ মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী ৫৩ নম্বর আসামি।