কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারবিরোধী যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। এ সময় মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলিতে এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টেকনাফে মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানোর সময় চক্রটির সদস্যদের সঙ্গে গুলি বিনিময় হয়। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় ও উদ্ধার করা অস্ত্রের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. কাওসার সিকদারও অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লেদা নুরালীপাড়া পাহাড়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করার পাশাপাশি মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরীও গোলাগুলি ও সেনাসদস্য আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল একটি সন্ত্রাসী চক্র। তাঁদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করলে চক্রের সদস্যরা গুলি চালায়। এতে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাছিমা আক্তার বলেন, বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলি হয়েছে। পাহাড়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে শতাধিক মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনের পরিচয় এবং তাঁদের ঠিক কোন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।