বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের সতর্কতা উপেক্ষা করেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নীতি ও কৌশল পরিবর্তনের চাপ বাড়ছে। নিজ দলের মিত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের রদবদল এবং প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির মতো যেসব বিষয় নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, সেগুলো থেকে সরে আসার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের সতর্কতা উপেক্ষা করেছিলেন ট্রাম্প
ছবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নীতি ও কৌশল পরিবর্তনের চাপ বাড়ছে। নিজ দলের মিত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের রদবদল এবং প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির মতো যেসব বিষয় নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, সেগুলো থেকে সরে আসার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা।

তবে গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরও ট্রাম্পের বক্তব্যে কৌশল পরিবর্তনের স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের রাতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটাকে আমার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছি না।’

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগে বাধা দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। ফলে নিজের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ট্রাম্পকে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

এ অবস্থায় বর্তমান নীতিতে অনড় থাকলে রিপাবলিকানদের জন্য কতটা রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জেডি ভ্যান্সের দূরত্ব

ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গতকাল বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। তাঁর এ বক্তব্যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও দলীয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, রিপাবলিকান রাজনীতিবিদেরা যদি মনে করেন ভোটারদের ওপর ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমে আসছে, তাহলে ভ্যান্সের মতো আরও নেতাও তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারেন।

প্রবীণ রিপাবলিকান কৌশলবিদ জন ফিহেরি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের জন্য ‘বিরাট বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ব্যাপক রদবদল প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব আরও কমবে।

জন ফিহেরি বলেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ব্যাপক রদবদল প্রয়োজন। সময় যত যাবে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব তত কমবে।

সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন ট্রাম্প

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা কর্মীদের বিদায়, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের মনোবল এখন একেবারেই তলানিতে।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগেই প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ জরিপে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই পরাজয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদলাননি ট্রাম্প। তিনি কারও পরামর্শ শুনতে চাননি।

মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেন, আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে ক্ষতি করেছে। তবে যুদ্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।

বলরুম নির্মাণ নিয়েও অসন্তোষ

রিপাবলিকানদের উদ্বেগের বিষয় কেবল ইরান যুদ্ধ নয়। মিশিগান ও আইওয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনগুলোতে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনায় আরও একটি অসন্তোষের বিষয় উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে সরকারি ভবন ও স্থাপনা সংস্কারে ট্রাম্পের উদ্যোগ নিয়ে অনেক রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটার আপত্তি জানিয়েছেন।

এক রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আগামী দুই বছরও ট্রাম্প এসব প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে থাকলে পরবর্তী নির্বাচনে দল আবার বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।

তবে গতকালও সাংবাদিকদের বলরুম নির্মাণস্থল ঘুরিয়ে দেখান ট্রাম্প। প্রকল্পটির পেছনে সময় দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ কাজ তাঁকে স্বস্তি দেয়।