শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে (৪০) নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর চুল কেটে দেওয়ার পাশাপাশি সারা শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেছেন।

ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে (৪০) নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর চুল কেটে দেওয়ার পাশাপাশি সারা শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবদুর রশিদ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁদের সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর বর্ণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তিনি নিজের বাড়িতে বসে ছিলেন। তাঁর ছেলে তখন ঘরে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় নারায়ণপুর গ্রামের আবদুর রশিদ তাঁর বাড়িতে এসে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ তোলেন। এর কিছুক্ষণ পর আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে সেখানে আসেন। তাঁরা পাঁচজন মিলে তাঁর চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেন, চুল কেটে দেন এবং সারা শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতন করেন।

ওই নারীর চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে ছেলে তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরে ওই নারী স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি ঝিনাইদহ সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, তাঁরা জমি বিক্রি করে বাড়িতে পাকা রান্নাঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণ করছেন। তাঁর অভিযোগ, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামীর টাকায় এসব কাজ করা হচ্ছে। ওই নারী বলেন, “আমরা হিন্দু মানুষ বলে বাড়ির ওপর এসে এভাবে নির্যাতন করেছে।”

ভুক্তভোগীর ছেলে বলেন, “মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে ধরে রেখে গায়ে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে। আবদুর রশিদ উপস্থিত থেকে আমার মা ও আমাকে নির্যাতন করেছে।”

স্থানীয় এক বাসিন্দাও অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েরা মিলে ওই নারীর ওপর হামলা করেছেন। ওই নারী হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাঁরা বাড়িতে গিয়ে দলবদ্ধভাবে মারধর করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুর রশিদ এলাকায় নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তবে দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, বিএনপিতে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মামলা হওয়ার খবর শোনার পর থেকে তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলেকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।