শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

চুয়েটে ফের ‘সর্বাত্মক শাটডাউনে’র ডাক শিক্ষার্থীদের

ক্লাস শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় আবারও ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এক দিনের জন্য তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে

চুয়েটে ফের ‘সর্বাত্মক শাটডাউনে’র ডাক শিক্ষার্থীদের
ছবি: সংগৃহীত

ক্লাস শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় আবারও ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এক দিনের জন্য তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার এক দিনের জন্য শাটডাউন কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।

চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় থাকবেন। এ কারণে রোববার বিকেলে তিনি অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেন।

আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ৩৬ দিনের শাটডাউন কর্মসূচি পালনের পর গত বুধবার থেকে ক্লাসে ফিরেছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে নতুন উপাচার্যের এ সিদ্ধান্তের পর আবারও আন্দোলনে ফেরার ঘোষণা দেন তাঁরা।

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর নিজেদের শিক্ষাজীবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাঁদের স্পষ্ট শর্ত ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে তাঁরা মেনে নেননি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তাঁর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে নিজে উপস্থিত না থেকেও অন্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে রোববার বেলা তিনটার দিকে চুয়েট মিলনায়তনে সভা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন চলায় শিক্ষাজীবন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তাঁরা ক্লাসে ফিরেছিলেন। কিন্তু তাঁদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই সোমবার শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে আমাদের একটাই দাবি, অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা। এই দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ইউজিসির একটি দাপ্তরিক কাজে অংশ নিতে তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন। পরদিনই ক্যাম্পাসে ফেরার আশা করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। ডিনদের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠতম হওয়ায় দাপ্তরিক প্রয়োজনে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ৩৪তম দিনে, ২৫ অক্টোবর, তাঁরা ক্লাসে ফেরার আগ্রহের কথা জানান।

ওই দিন সাধারণ সভা করে শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত না করার লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথ সভা শেষে এক বিবৃতিতে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যেকোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি কঠোরভাবে পালনের কথা জানিয়েছিল শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও বলেছিলেন, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আবারও আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠবে। তিনি ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিলে শাটডাউন ঘোষণা এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে ফিরে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তাঁরা।

নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি। আন্দোলনের মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগদান করেন অধ্যাপক শরীফুল আলম। পরে ১২ অক্টোবর সকালে প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ে যান তিনি।

সেদিন দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দিলে সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন অধ্যাপক শরীফুল আলম। পরদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।