পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করে দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ও তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষি ও জনজীবনে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পানির সংকট দূর করতে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, “দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে আমরা দেখেছি, কীভাবে আমাদের পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশের দুটি বড় নদী—উত্তরাঞ্চলের তিস্তা এবং রাজশাহীর পদ্মায় ব্যারেজ তৈরি করব, যাতে পানির সমস্যা দূর করতে পারি।”
পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা পানির সংকট তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে সরকার আলোচনা করবে।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা ততদূর যাব। কিন্তু ইনশআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের উদ্যোগের পাশাপাশি পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শুরু ও শেষ করার চেষ্টা করবে সরকার। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রথমে রাজশাহীর মানুষ এবং পরে আশপাশের জেলার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
জনসভায় বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ, কৃষকদের সহায়তা, কৃষক কার্ড চালু এবং নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা কী চান, আপনাদের নির্বাচিত সরকার বিএনপি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করুক? তাহলে ইনশাআল্লাহ, আগামী পাঁচ বছর বিএনপিকে এই সমর্থন আপনাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সমর্থন দেবেন?”
এ সময় জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত তুলে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা।