ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান ‘ডন অব ইয়েমেন’ সামরিক অভিযানে ৯৫০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৩৮০টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
বুধবার (১৩ অক্টোবর) সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মজিদ আল-নুজাইলির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্নেল মজিদ আল-নুজাইলি জানান, সরকারি বাহিনী বিভিন্ন সামরিক ফ্রন্টে মোট ১ হাজার ৮৭৯টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামানের গোলা, রকেট লঞ্চার ও স্নাইপার ইউনিট ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযানে হুথিদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, কমান্ড সেন্টার, অস্ত্রাগার ও সরবরাহব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তবে এসব দাবির বিষয়ে হুথিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা ও সামরিক যান ধ্বংসের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি গত ৫ অক্টোবর ‘ফজর আল-ইয়েমেন’ বা ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করেন। হুথিদের দখলে থাকা রাজধানী সানাসহ অন্যান্য এলাকা পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করা এবং হুথি অভ্যুত্থানের অবসান ঘটানো এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব এল-মানদেবকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও জোরদার হয়েছে। সরকারি বাহিনী বাব এল-মানদেব, ধুবাব ও মোখা এলাকায় অগ্রগতির দাবি করেছে। তবে হুথিরা এসব দাবি অস্বীকার করেছে।
২০১৪ সালে আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে ইয়েমেনের এই সংঘাতের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে তা ব্যাপক মানবিক সংকটে রূপ নেয়। এর আগেও ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী বহু হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ১৮০টির বেশি সামরিক যান ধ্বংসের দাবি করেছিল।