শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে ২৮ জন আটক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে দাবি পুলিশের

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। শ্রমিকদের আন্দোলনে ঢুকে তাঁরা সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে ২৮ জন আটক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে দাবি পুলিশের
ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। শ্রমিকদের আন্দোলনে ঢুকে তাঁরা সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রাকিব ও আরিফ নামের দুজন রয়েছেন। আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে দাবি করেন তিনি। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অন্যদিকে, ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের নাম-পরিচয় পরে জানানো হবে। তাঁর দাবি, নাশকতার পর আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হয়ে মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ডিবি কর্মকর্তা রাকিব খান বলেন, মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতা। তাঁর দাবি, ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ এ কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন।

রাকিব খানের ভাষ্য, আলিফ মোল্লাহ ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় এনেছেন। আন্দোলনস্থলে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে পোশাকশ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন। তবে গতকাল থেকে আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠেছে। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে একই ধরনের অভিযোগ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা ঢুকে পড়েছেন।

এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর মতে, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড এবং পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে পৃথক বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে সরে এসে কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকেরা দাবি করছেন, এখনো মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হয়নি। অথচ তাঁদের নেতাদের উপস্থিতিতেই রোববার বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে—এটি স্পষ্ট।

মন্ত্রী যখন সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, তখন মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকেরা। কয়েক ঘণ্টার জন্য মেট্রোরেল চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন তাঁরা।

পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ ও সংঘর্ষ

রোববার সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ, যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ভোগান্তিতে পড়েন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুরের দিকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সড়ক ও রেল—দুই পথেই যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

মিরপুরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকার প্রবেশপথের নিরাপত্তা ফটকও বন্ধ রাখা হয়। ফলে রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে অনেক এলাকায় প্রবেশ করা যায়নি। পথচারীদের হেঁটে অথবা বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

এদিকে বিকল্প সড়ক ও আবাসিক এলাকার ভেতরের গলিতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ সময় রিকশা ও মোটরসাইকেলের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজল হক বকশী বলেন, সড়কে আন্দোলনের কারণে যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অবরোধ থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।