ইরান ও আমেরিকার চলমান তীব্র সংঘাতের আবহেই বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি এখন পুরোপুরি মার্কিন নৌবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছে। জলপথে অবস্থানরত বিপজ্জনক মাইন চিহ্নিতকরণ ও তা নিষ্কৃতি দেওয়ার কাজও আমেরিকান বাহিনী অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উক্ত চ্যানেলটি এখন আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। প্রণালির শাসনভার পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে রয়েছে দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, মাঝেমাঝে শত্রুপক্ষ কর্তৃক নতুন করে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার চেষ্টা করা হলেও মার্কিন সদস্যরা তা সফলভাবে উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করছে।
দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বৈরী সম্পর্কের জেরে এই প্রণালির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম সংশয় তৈরি হয়েছিল। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উক্ত নৌপথে দুই ডজনেরও বেশি মার্কিন রণতরী মোতায়েনের তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বের সার্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে এই সমুদ্রপথের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর ফলে এই চ্যানেলে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজার ও জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আর্থিক দাবির প্রসঙ্গ তোলার কথা স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে—এমন সংবাদের পর তিনি পাল্টা অর্থ দাবির বিষয়টি সামনে আনেন। মূলত ইরানি হামলায় প্রাণ হারানো আমেরিকানদের স্বজনদের প্রাপ্য অনুদানের জন্য এই অর্থ দাবি করা হবে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে আন্তর্জাতিক এই নৌপথ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার প্রশ্নে ওয়াশিংটনের সামনে কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তাদের দাবির মধ্যে মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো প্রধান হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে হরমুজের একচ্ছত্র আধিপত্য ও সমুদ্রপথ চালুর বিষয়ে দুই রাষ্ট্রের মেরুকরণ এখনও বেশ দৃশ্যমান।