কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এর সূচকভিত্তিক মূল্যায়নে শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্রের সংখ্যায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দশম স্থান অর্জন করেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক র্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডসের (কিউএস) প্রকাশিত এ র্যাঙ্কিংয়ে সূচকটিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬। সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের অবনতি হলেও গবেষণার এ সূচকে দেশের শীর্ষ দশে জায়গা পাওয়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিউএস প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সূচকভিত্তিক স্কোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্রের সংখ্যায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। প্রতিষ্ঠানটির স্কোর ৬৩। দ্বিতীয় স্থানে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কোর ৬১ দশমিক ৮। তৃতীয় স্থানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), স্কোর ৩৬ দশমিক ৫। চতুর্থ স্থানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), স্কোর ৩৬ দশমিক ১।
তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), স্কোর ৩৪ দশমিক ১। ষষ্ঠ স্থানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), স্কোর ৩৪। সপ্তম স্থানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), স্কোর ৩২ দশমিক ৯। অষ্টম স্থানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্কোর ৩১ দশমিক ৪ এবং নবম স্থানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কোর ৩১। দশম স্থানে থাকা পাবিপ্রবির স্কোর ৩০ দশমিক ৬।
এদিকে, একই সূচকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ২৬ দশমিক ২, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ দশমিক ৮, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ দশমিক ৮, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ দশমিক ১ এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ দশমিক ৫। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ২০ দশমিক ৩, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ দশমিক ৭ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭।
শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্রের সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উৎপাদনশীলতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এ সূচকে ভালো অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকেন্দ্রিক কার্যক্রম, শিক্ষক-গবেষকদের প্রকাশনা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে অবদান তুলে ধরে। তবে এ সূচকের অবস্থান সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের সমতুল্য নয়।
এর আগে প্রকাশিত কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ সামগ্রিক অবস্থানের অবনতি হয়েছে পাবিপ্রবির। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ১৪০১-১৫০০তম ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে। আগের বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ১২০১-১৩০০তম ব্যান্ডে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সামগ্রিক অবস্থান ৪৫তম। তবে শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্রের সংখ্যায় শীর্ষ দশে জায়গা পাওয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রমের সম্ভাবনাময় দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী বলেন, ‘কিউএস র্যাঙ্কিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণ করে। আমরা ইতোমধ্যে মানসম্মত গবেষণাপত্র প্রকাশ, সাইটেশন বৃদ্ধি এবং বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনায় র্যাঙ্কিংয়ের অন্যান্য সূচক উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানজনক অবস্থান অর্জনে সক্ষম হবে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্রের সংখ্যায় দেশের শীর্ষ দশে অবস্থান পাবিপ্রবির জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে এ অবস্থান ধরে রাখা ও আরও এগিয়ে যেতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, আধুনিক গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষকদের জন্য গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের অন্যান্য সূচকেও উন্নতি আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।