শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পাঁচ মাসে ২০৪কোটি বৈদেশিক ঋণ শোধ করল সরকার

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত যেকোনো পাঁচ মাসের তুলনায় এই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ এটাই প্রথম।

পাঁচ মাসে ২০৪কোটি বৈদেশিক ঋণ শোধ করল সরকার

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ মেটাতে রেকর্ড সর্বমোট ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার শোধ করেছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই মেয়াদের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের এই চিত্র প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত যেকোনো পাঁচ মাসের তুলনায় এই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ এটাই প্রথম।


পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ মেটানোর এই অংক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলোচিত এই মেয়াদে আসলের কিস্তি বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদের দায়িত্ব মেটাতে ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার সরকারি কোষাাগার থেকে ব্যয় করতে হয়েছে। ফলে প্রতি মাসে গড়ে বাংলাদেশকে প্রায় ৪১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আগের সরকারের আনা বিশাল অঙ্কের ঋণের কিস্তি শোধ করা বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারকদের মতে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের নামে নেওয়া ঋণের রেয়াতকাল বা গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমান সময়ে আসল ও সুদ একসাথে পরিশোধের চাপ প্রবল হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নেওয়া বহু প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা বিবেচনা না করেই অপরিকল্পিতভাবে দেনা বাড়ানো হয়েছিল। বিদ্যুৎ খাতের মতো জায়গায় বড় ধরণের ভর্তুকি ও আর্থিক দায় ছেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও বর্তমান প্রশাসন অর্থনীতি সামলে নিয়মিত দেনা শোধের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

ইআরডির ঐতিহাসিক তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই অংক দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি ডলারে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এখন থেকে দেশি-বিদেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।