শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মার্কিন নির্বাচনের প্রভাবে প্রযুক্তি শেয়ারে ধস, বিশ্ববাজারেও দরপতন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর দেশটির প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের সম্প্রসারণে গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা।

মার্কিন নির্বাচনের প্রভাবে প্রযুক্তি শেয়ারে ধস, বিশ্ববাজারেও দরপতন
ছবি: ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে নাসডাক মার্কেটের বাইরে একটি পর্দায় শেয়ার লেনদেনের তথ্য দেখা যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর দেশটির প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের সম্প্রসারণে গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা। 

প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রি করছেন। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার এক দিনেই মার্কিন পুঁজিবাজারের বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের এই ধাক্কা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও।

শুক্রবার লেনদেন শুরুর পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কেওএসপিআই প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। পরিস্থিতির কারণে দেশটির প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক কমে যায় ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত ৬ অক্টোবর সূচকটি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। সেই অবস্থান থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সূচকটির পতন হয়েছে ১০ শতাংশ।

২০২৫ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবারের আগপর্যন্ত নাসডাকের এত বড় এক দিনের পতন আর দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোনসও বড় দরপতনের মুখে পড়ে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে এই দুই সূচকেরও এত বড় পতন হয়নি।

অথচ নির্বাচনের পর বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেদিন ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্ট বেড়েছিল এবং নাসডাকের উত্থান হয়েছিল ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তখনো নির্বাচনের সব ফল প্রকাশিত হয়নি। পরে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ডাও জোনস ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট কমে যায়।

বুধবার প্রধান সূচকগুলো বাড়লেও সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনকারী এবং এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দর নিম্নমুখী ছিল। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক বাজারেও।

প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের জয়কে দেখা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে নির্বাচনী প্রচারে জিনা হিনাহোসে অঙ্গরাজ্যে সাময়িকভাবে নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ রাখা এবং এ খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু করছাড় প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

টেক্সাসের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর একটি সূচক কমেছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে এক দিনে সূচকটির এত বড় পতন আর হয়নি। এ ছাড়া ইলন মাস্কের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম কমেছে ১১ শতাংশ এবং তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৯ শতাংশ।

টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দরপতনের প্রভাব পড়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক ইলন মাস্কের সম্পদেও। বৃহস্পতিবার এক দিনেই তাঁর সম্পদের মূল্য কমেছে ৮০০ কোটি ডলার। দিন শেষে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। অথচ এক মাসেরও কম সময় আগে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিলেন ইলন মাস্ক। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির দেওয়া এটিই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অনুদান। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ঠেকাতে পারেননি তিনি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। এতে তাঁর সম্পদের মূল্যও দ্রুত কমে যায়। ফোর্বসের রিয়েল টাইম হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সময় ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।