শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

৩৮ বছর পর ফিরলেন স্বামী, রাগ ভাঙছে না স্ত্রীর

৩৮ বছর আগে অভিমান করে স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তানকে রেখে ঘর ছেড়েছিলেন জবেদ আলি। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু প্রায় চার দশক পর হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসে পেলেন ভিন্ন এক বাস্তবতা—স্বজনদের উচ্ছ্বাস থাকলেও অভিমান ভোলেননি স্ত্রী রুশিয়া খাতুন।

৩৮ বছর পর ফিরলেন স্বামী, রাগ ভাঙছে না স্ত্রীর

৩৮ বছর আগে অভিমান করে স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তানকে রেখে ঘর ছেড়েছিলেন জবেদ আলি। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু প্রায় চার দশক পর হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসে পেলেন ভিন্ন এক বাস্তবতা—স্বজনদের উচ্ছ্বাস থাকলেও অভিমান ভোলেননি স্ত্রী রুশিয়া খাতুন।

ঘটনাটি গাংনী উপজেলার বামন্দী বাজারের ক্যাম্প পাড়া এলাকার। পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ১৯৮৮ সালে বাড়ি ছেড়ে চলে যান জবেদ আলি। তখন তিনি স্ত্রী রুশিয়া খাতুন ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে রেখে যান।

দীর্ঘ সময় ধরে স্বজনরা তার খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে তারা ধরে নেন, জবেদ আলি হয়তো আর বেঁচে নেই। পরে অনুসন্ধান বন্ধ করে দেন পরিবারের সদস্যরা।

তবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন জবেদ আলি। যুবক বয়সে ঘর ছাড়লেও ফিরে আসেন বৃদ্ধ বয়সে। তাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা আনন্দিত হলেও স্ত্রী রুশিয়া খাতুন এখনো অভিমান ভোলেননি। ফলে নিজের ঘরে জায়গা না পেয়ে বর্তমানে ভাইয়ের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছেন জবেদ আলি।

জবেদ আলি জানান, বাড়ি ছাড়ার পর জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে কাটিয়েছেন।

অন্যদিকে রুশিয়া খাতুনের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ে করার পর জবেদ আলি তাদের অসহায় অবস্থায় ফেলে চলে যান। ফলে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন পার করতে হয়েছে।

যদিও আরেকটি সংসার থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জবেদ আলি।

রুশিয়া খাতুন বলেন, ‘ওই সময় তাকে সব জায়গায় খুঁজেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুকের সন্তানকে নিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছি। মানুষের বাড়িতে এমন কোনো কাজ নেই, যা করিনি। সন্তানকে বড় করতে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি।’

তিনি জানান, পরে ছেলে জাহাঙ্গীর বড় হয়ে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। বর্তমানে তিনি কুয়েতে কর্মরত। তার উপার্জনে পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।

স্বামীকে আবার গ্রহণ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুশিয়া খাতুন বলেন, ‘তার ফিরে আসা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। ৩৮ বছর সন্তান নিয়ে অথৈ সাগরে ভেসেছি। তখন কি একবারও তার মনে হয়েছে, ঘরে থাকা নিষ্পাপ শিশুটি কী খাচ্ছে, কীভাবে বেঁচে আছে? যে সময়ে একজন স্ত্রীর জন্য স্বামীই ছিল বেঁচে থাকার অবলম্বন, সেই সময় তাকে পাশে পাইনি।

এখন সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে, তাই কেন সে এসেছে? ছেলে বিদেশ থেকে ফিরে এলে তার মতামত অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জবেদ আলির ভাই ও ভাতিজারা জানান, দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পাওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে তারা ধরে নিয়েছিলেন, তিনি আর জীবিত নেই। এরপর তারা অনুসন্ধানও বন্ধ করে দেন।

তবে পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, আলোচনা ও পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে একসময় স্ত্রী ও ছেলে তাকে মেনে নেবেন। তাদের বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিমান ও দূরত্ব কমে আসবে এবং পরিবারটি আবার একসঙ্গে বসবাস করতে পারবে।

জবেদ আলি জানান, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুন্ডুরিয়া গ্রামে তিনি দ্বিতীয় একটি সংসার গড়েছিলেন। সেই সংসারে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পরিবার ও স্বজনরা যদি আমাকে মেনে নেয়, তাহলে মেয়েকেও এখানে নিয়ে আসব।’

তবে কী কারণে তিনি ৩৮ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি জবেদ আলি। বিষয়টিকে তিনি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করেন।