শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

'রাজনীতি খুবই কম বুঝি, আমরা বুঝি পেট নীতি'

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রাম, সুন্দরবনের আশেপাশের নদীবেষ্টিত এলাকা, যেখানে আড়াই হাজার বাসিন্দা বিভিন্ন মৌসুমে মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে নারী শ্রমিকদের জন্য জীবিকা নির্বাহ মানেই কঠোর পরিশ্রম, ঝুঁকি এবং নিরাপত্তাহীনতা। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নারীরা ভোটের মাধ্যমে মূলত চাইছেন সংসার চলার নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ পরিবেশ।

'রাজনীতি খুবই কম বুঝি, আমরা বুঝি পেট নীতি'
সুন্দরবন ও এর আশেপাশের নদীকে ঘিরে জীবন-জীবিকা যাদের, এমনএকজন নারী

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রাম, সুন্দরবনের আশেপাশের নদীবেষ্টিত এলাকা, যেখানে আড়াই হাজার বাসিন্দা বিভিন্ন মৌসুমে মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে নারী শ্রমিকদের জন্য জীবিকা নির্বাহ মানেই কঠোর পরিশ্রম, ঝুঁকি এবং নিরাপত্তাহীনতা। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নারীরা ভোটের মাধ্যমে মূলত চাইছেন সংসার চলার নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ পরিবেশ।

চপলা রানী মণ্ডল তার সংসারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, “নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময়ও পরিবার চালাতে মাছ ধরি। স্বামী ভারী কাজ করতে পারেন না, তাই সাতজনের পরিবারের জন্য আমারও নদীতে নামতে হয়। কখনো মেয়ে, কখনো ছেলে সাহায্য করে।” তার মতে, যখন মাছ ধরার মৌসুম নেই, তখন কাঁকড়া ধরা বা কাঠ কুড়িয়ে সংসার চালাতে হয়।

পশ্চিম চিলা গ্রামের নারীরা শুধু মাছ ধরার জন্য নদীতে নামেন না; লবণাক্ত পানিতে কাজের ফলে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ক্লারা সরকার জানান, “আমাদের মহিলাদের জরায়ুর সমস্যা বেড়েছে, শরীরে চুলকানি ও পেটের অসুখ প্রচুর।” এলাকায় কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল না থাকায় গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসা সম্ভব নয়।

স্থানীয়রা ভেটিভে ভিজিএফ ও জেলে কার্ডের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ২৮৫১ পরিবারের মধ্যে মাত্র কয়েকজন কার্ডধারী। ফলে বাকি বাসিন্দারা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত।

নারীরা নির্বাচনের মাধ্যমে চান: স্থায়ী কর্মসংস্থান, সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ, নিরাপদ চলাচল এবং স্বাস্থ্যসেবা। মিজ সরকার বলেন, “ভোট দিয়ে যদি কাজের ব্যবস্থা হয়, তবেই দিলাম।” তারা চাইছেন স্থানীয় সড়ক সংস্কার, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত হোক।

এ এলাকার ভোটাধিকার প্রার্থী হিসেবে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দল থেকে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারীদের প্রত্যাশা স্পষ্ট: ভোট মানে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা ও স্থায়ী সমাধান।