রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

৮০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ফের শুরু হচ্ছে ইরান যুদ্ধ?

সাময়িক শান্ত পরিস্থিতি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের আক্রমণের জের ধরে ইরানের ভেতরে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

৮০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ফের শুরু হচ্ছে ইরান যুদ্ধ?
ছবি : সংগৃহীত

সাময়িক শান্ত পরিস্থিতি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের আক্রমণের জের ধরে ইরানের ভেতরে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

কিছুদিন আগে স্বাক্ষরিত হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই পদক্ষেপ নেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে অবস্থান করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকেই তিনি ইরানি ভূখণ্ডে এই অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অত্যন্ত নিখুঁত ও আধুনিক প্রযুক্তির সমরাস্ত্র ব্যবহার করে তারা ইরানের ভেতরে ৮০টিরও বেশি কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। মার্কিন বাহিনীর এই বিমান হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক কমান্ড নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অন্তত ৬০টি ছোট যুদ্ধজাহাজ ও নৌকা এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রসীমায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলার পর ওয়াশিংটন এই কড়া জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট সচল রাখা এবং বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রথম দফার এই হামলা কতটা সফল হয়েছে তা মূল্যায়নের পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। ফলে এই সামরিক অভিযান এখনই থামছে নাকি আরও দীর্ঘায়িত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই হামলার রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আঙ্কারায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের সাথে জরুরি বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হামলার ঠিক আগমুহূর্তে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা বিশেষ নিষেধাজ্ঞা ছাড়ও বাতিল করে দেয়। অন্যদিকে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসরায়েল সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তেল আবিবের সাথে তুরস্কের কাছে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাতের এই আকস্মিক হামলার পর সেই সফর অপরিবর্তিত থাকবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি দোহায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই এই বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের জেরে সেই শান্তি চুক্তি এখন গভীর সংকটে পড়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।