রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সাংবাদিক হয়রানি ও জাতীয় সংগীত অবমাননায় পরীমনিকে আইনি নোটিশ

রবিবার, ৮ নভেম্বর, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান শাহরিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নোটিশটি প্রেরণ করেন।

সাংবাদিক হয়রানি ও জাতীয় সংগীত অবমাননায় পরীমনিকে আইনি নোটিশ
সংবাদকর্মীদের নাজেহাল করা এবং দেশের জাতীয় সংগীতকে অবমাননার গুরুতর অভিযোগে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে (যাঁর প্রকৃত নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি) একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির শীর্ষ দুই নেতা অর্থাৎ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও এই নোটিশের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার, ৮ নভেম্বর, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান শাহরিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নোটিশটি প্রেরণ করেন।

প্রেরিত ওই আইনি পত্রে আগামী এক সপ্তাহের মাঝে আদালত চত্বরে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় স্বীকার করে পরীমনিকে লিখিতভাবে শর্তহীন ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সিনেমা, ভিডিও কিংবা অন্য যেকোনো মাধ্যমে শিক্ষামূলক বা শৈল্পিক তাৎপর্যহীন কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন নৃত্য, অশ্লীল বাক্যালাপ ও হুমকি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে তাকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, নোটিশ হাতে পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই অভিনেত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে যথাযথ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মাঝে এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে সেখানে।

নোটিশের বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা একটি মামলায় গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করেন এই নায়িকা। ওইদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি গাড়ি থেকে নেমে বিচারকক্ষের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তার ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ব্যাপক হট্টগোল ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরীমনি দৈনিক সমকাল পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক রবিউল হোসাইনের মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেন এবং তার রক্ষীরা ওই সাংবাদিকের ভিডিও ধারণের ট্রাইপডটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কাধাক্কিতে জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হন। এমনকি সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের বিচারপ্রত্যাশী এক সাধারণ নাগরিকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হওয়ার খবরও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। আইনি নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আদালত প্রাঙ্গণে সকলের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের। সেখানে নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া প্রদর্শন কিংবা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের কোনো বৈধ অধিকার কারও নেই।

ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় জন্মগতভাবে ডান হাত বিকলাঙ্গ (বাঁ হাতের তুলনায় ছোট ও তিনটি আঙুলবিহীন) সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে যান পরীমনি। নোটিশের তথ্যমতে, তিনি ওই সাংবাদিককে গালিগালাজ করে বলেন যে তিনি কেন তার হাত ধরেছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে পিষে মেরে ফেলার মতো ভয়ংকর প্রাণনাশের হুমকিও দেন এই অভিনেত্রী, যার ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

নোটিশে আক্ষেপ করে বলা হয়েছে, পেশাদার একজন সংবাদকর্মীর প্রতি পরীমনির এহেন রুক্ষ আচরণ শুধু ব্যক্তি মর্যাদাতেই আঘাত হানেনি, বরং এটি স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার মুক্ত চর্চার জন্য এক চরম অশনিসংকেত। রূপালি পর্দার একজন তারকার কাছ থেকে এমন শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়া, গত ৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশের পবিত্র জাতীয় সংগীতকে আবহ সংগীত হিসেবে জুড়ে দিয়ে পরীমনি একটি কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করেছেন বলেও নোটিশে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার এমন উপর্যুপরি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন।